আমাদের সম্পর্কে
হেযবুত তওহীদ সম্পর্কে যাদের জানার আকাঙ্ক্ষা আছে, তাদের জন্য অতি সংক্ষেপে হেযবুত তওহীদ সম্পর্কে তুলে ধরা হলো।
হেযবুত তওহীদ সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংস্কারমূলক আন্দোলন যার মূল কাজই হলো মানবজাতিকে ন্যায়ের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ করা এবং মানবজাতির অশান্তির মূল কারণ দাজ্জালের অনুসরণ না করে সমগ্র পৃথিবীতে সৃষ্টিকর্তার সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করা।
পুরো মানবজাতিকে আল্লাহর তওহীদের ভিত্তিতে অর্থাৎ সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে, সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করাই হেযবুত তওহীদের মূল লক্ষ্য। মানবজীবনে সঠিক পথ, হেদায়াহ (Right Direction) ও সত্য জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলে সমস্ত মানবজাতি অন্যায় ও অবিচার থেকে মুক্তি পাবে। পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত হবে অনাবিল শান্তি। সেই শান্তিময় পৃথিবী প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে সংগ্রাম করে যাচ্ছে হেযবুত তওহীদের সদস্য-সদস্যারা।
জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী
টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী পন্নী পরিবারে জন্ম নেওয়া জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী ছিলেন একাধারে সমাজ সংস্কারক, লেখক, চিন্তাবিদ ও সত্যের সন্ধানী এক মহান ব্যক্তিত্ব। ১৯৯৬ সালে তিনি হেযবুত তওহীদ আন্দোলনের সূচনা করেন।
জনাব হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম
২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নীর ইন্তেকালের পর হেযবুত তওহীদের এমামের দায়িত্ব গ্রহণ করেন জনাব হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। তাঁর গতিশীল নেতৃত্বে আন্দোলনটি দেশব্যাপী এক বিশাল সংস্কারমূলক আলোড়ন তৈরি করেছে।
মূলনীতি
- হেযবুত তওহীদ চেষ্টা করে আল্লাহর রসুলের প্রতিটি পদক্ষেপকে অনুসরণ করতে।
- হেযবুত তওহীদের কোনো গোপন কার্যক্রম নেই, সবকিছু হবে প্রকাশ্য এবং দিনের আলোয়।
- ১ ঐক্যবদ্ধ হও।
- ২ (নেতার আদেশ) শোন।
- ৩ (নেতার ঐ আদেশ) পালন করো।
- ৪ হেযরত (যাবতীয় অন্যায়ের সঙ্গে সম্পর্কত্যাগ) করো।
- ৫ এই দীনুল হক (ন্যায়, সত্য) পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা, প্রচেষ্টা।
কর্মসূচি
মানুষকে সৎপথে আহ্বান জানানোর জন্য পাঁচ দফা কার্যক্রম:
- ১ মানুষকে তওহীদের দাওয়াত দেওয়া।
- ২ জুলুম ও অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো।
- ৩ সমাজে সুবিচার ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা।
- ৪ অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সৃষ্টি করা।
- ৫ আত্মশুদ্ধি ও চরিত্র গঠনে মনোনিবেশ করা।
হেযবুত তওহীদ রাষ্ট্রীয় আইনকে পূর্ণরূপে মান্য করে গত ২১ বছর ধরে আন্দোলন পরিচালনা করে আসছে। মানবজাতিকে স্রষ্টার সার্বভৌমত্বের দিকে আহ্বান করার জন্য হেযবুত তওহীদ মাননীয় এমামুয্যামানের বক্তব্য ও লেখা সম্বলিত হ্যান্ডবিল, বই, পত্রিকা, প্রামাণ্যচিত্র ইত্যাদি সর্বশ্রেণি মানুষের কাছে পেঁছানোর জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করে থাকে। এরই অংশ হিসাবে বাসে, ট্রেনে, লঞ্চে, রাস্তাঘাটে এই প্রকাশনা সামগ্রীগুলি বিক্রয়, বই মেলায় স্টল গ্রহণ, শিল্পকলা একাডেমী, পৌর মিলনায়তন, জাতীয় প্রেসক্লাব, পাবলিক লাইব্রেরির সেমিনার কক্ষ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হল, জাতীয় যাদুঘরের সেমিনার কক্ষসহ বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের উপস্থিতিতে, সকল ধর্মের সম্মানিত ব্যক্তি ও ধর্মগুরুদের নিয়ে মতবিনিময়ের মাধ্যমে, এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করে আমাদের সকল কার্যক্রম সম্পর্কে নিয়মিতভাবে অবহিত করে থাকি এবং প্রকাশনাসমূহ দিয়ে আমাদের বক্তব্য সম্পর্কে জানিয়ে থাকি।
মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে আল্লাহর সত্যদীন প্রতিষ্ঠার জন্য নিঃস্বার্থভাবে নিজেদের জীবন ও সম্পদ উৎসর্গ করে সংগ্রাম করে যাওয়ার জন্য প্রয়োজন দৃঢ় চরিত্রবল, আত্মিক শক্তি, সবর, লক্ষের প্রতি অবিচলতা (হানিফ)। সেই চরিত্র হতে হবে প্রধানত উপরোক্ত পাঁচ দফা ভিত্তিক অর্থাৎ তাদেরকে হতে হবে ইস্পাতের মত ঐক্যবদ্ধ, পিঁপড়ার মতো সুশৃঙ্খল, স্রষ্টার প্রতি প্রকৃতির মতো আনুগত্যশীল, সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে নির্ভীক, কঠোর, প্রতিবাদী, নিঃস্বার্থ মানবপ্রেমী ও সংগ্রামী। এই চরিত্র অর্জনের জন্য হেযবুত তওহীদের প্রশিক্ষণ হচ্ছে সঠিক পদ্ধতিতে সালাহ বা নামাজ কায়েম করা। হেযবুত তওহীদকে আল্লাহ সালাতের সঠিক উদ্দেশ্য ও প্রক্রিয়া দান করেছেন। সালাতের বাইরে হেযবুত তওহীদ শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য বিভিন্ন শরীরচর্চামূলক খেলাকে (যেমন কাবাডি, ফুটবল, সাঁতার) উৎসাহিত করে থাকে।
রসুলাল্লাহর সময় যেমন পুরুষ আসহাবদের পাশাপাশি নারী আসহাবগণও জাতীয় ও সামাজিক প্রায় সকল কাজে অংশগ্রহণ করেছেন ঠিক তেমনি হেযবুত তওহীদ আন্দোলনের প্রায় সকল কাজে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও অংশগ্রহণ করে থাকে। আমীরের দায়িত্ব থেকে শুরু করে অফিসিয়াল কাজ, বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের কাজ (যেমন: প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কাজ, হিসাব রক্ষণ বিভাগের কাজ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ইত্যাদি) এমনকি পত্রিকা, বই বিক্রির কাজেও নারীরা শরিয়াহ নির্ধারিত যথাযথ হেজাব অনুসরণ করে পুরুষের সাথে অংশগ্রহণ করেন।
হেযবুত তওহীদ সুস্থ ধারার সংস্কৃতিকে লালন করে। এমামুয্যামানের স্মরণে হেযবুত তওহীদের প্রকাশিত প্রথম গানের অ্যালবাম “দ্য লিডার অব দ্য টাইম’। সেমিনারগুলিতে হেযবুত তওহীদের সদস্য-সদস্যরা যন্ত্রানুসঙ্গ সহযোগে সঙ্গীত পরিবেশন করে। আমরা জানি অশ্লীলতা ইসলামে হারাম বা অবৈধ কিন্তু যা অশ্লীল নয়, সুস্থ- এমন বিনোদন ইসলামে বৈধ।
একটি শক্তিশালী, বহির্মুখী, গতিশীল জাতির জন্য প্রয়োজন সুস্থ, সবল, গতিশীল, উদ্দমী নাগরিক। আর সুস্থ, সবল নাগরিক গড়ে তুলতে খেলাধুলা ও শরীর চর্চার কোনো বিকল্প নেই। কাজেই হেযবুত তওহীদ আন্দোলনের সদস্যদের মধ্যে শারীরিক সুস্থতা, ক্ষিপ্রতা, গতিশীলতা, সাহসিকতা ইত্যাদি বৃদ্ধির জন্য খেলাধুলার ব্যবস্থা রয়েছে। এক্ষেত্রে দেশীয় বা আন্তর্জাতিক বহিরাঙ্গনের (আউটডোর) খেলা যেমন কাবাডি, হা-ডু-ডু, ফুটবল, দৌঁড়, সাতার, ব্যাডমিন্টন ইত্যাদিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। যেসব খেলা মানুষকে অন্তর্মুখী ও স্থবির করে ফেলে সেগুলো নিরুৎসাহিত করা হয় এবং যে কোনো খেলায় অসুস্থ প্রতিযোগিতা, অর্থের লেনদেন, জুয়া বা বাজি ইত্যাদি এড়িয়ে চলতে বলা হয়।
বৃহত্তম মাইলফলক
২ ফেব্রুয়ারি ২০০৮ তারিখে মহান আল্লাহ এক মহান মো’জেজা অর্থাৎ অলৌকিক ঘটনা সংঘটন করেন যার দ্বারা তিনি তিনটি বিষয় সত্যায়ন করেন। যথা: হেযবুত তওহীদ হক (সত্য), এর এমাম আল্লাহর মনোনীত হক এমাম, হেযবুত তওহীদের মাধ্যমে সারা পৃথিবীতে আল্লাহর সত্যদীন প্রতিষ্ঠিত হবে ইনশাল্লাহ।
অনন্যতা
হেযবুত তওহীদ গত ২৭ বছরে দেশের একটিও আইনভঙ্গ করেনি, এর কোন সদস্য একটিও অপরাধ করেনি। এর প্রমাণ গত ২৭ বছরে এই আন্দোলনের বিরুদ্ধে পাঁচ শতাধিক অধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে কিন্তু একটি মামলাতেও এর কোন একজন সদস্যেরও কোন আইনভঙ্গের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সুতরাং তাদের কেউ সাজাপ্রাপ্ত হননি। আইন মান্য করার এরূপ দৃষ্টান্ত দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলির একটিও দেখাতে পারে নি। অথচ ধর্মব্যবসায়ীদের ষড়যন্ত্র এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতিক কতিপয় দলের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে এ পর্যন্ত আমাদের চার জন ভাই-বোন শহীদ হয়েছেন, শত শত আহত ও পঙ্গু হয়েছেন, বহু বাড়ি-ঘর লুটপাট, অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
অর্থের উৎস
হেযবুত তওহীদের সদস্যরা নিজেদের উপার্জিত বা অর্জিত সম্পদ ব্যয় করে আন্দোলনের কাজ করে থাকেন।