জনতার প্রশ্ন – আমাদের উত্তর
বিভিন্ন আলোচনা সভায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অথবা ফোনে হেযবুত তওহীদের আদর্শ ও কার্যক্রম সম্পর্কে অনেক প্রশ্ন করা হয়ে থাকে। হেযবুত তওহীদের পক্ষ থেকে আন্দোলনের মাননীয় এমাম জনাব হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর ফেসবুক লাইভে অথবা আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রদান করে থাকেন। এখানে তেমন দুটো প্রশ্নের উত্তর তুলে ধরা হলো।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের উন্নয়নে, জাতীয় সংকট নিরসনে হেযবুত তওহীদের অবদান কী?
উত্তর: দেশকে জঙ্গিবাদ, ধর্মব্যবসা, সাম্প্রদায়িকতা, সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন, অপরাজনীতি, মাদক ইত্যাদি সংকট থেকে মুক্ত করার জন্য জনসচেতনতা সৃষ্টির কাজ করছে বেসরকারি পর্যায়ে এমন কয়টি উদ্যোগ আছে বলুন তো? আমরা দেশজুড়ে এ যাবৎ প্রায় দুই লক্ষ জনসভা সেমিনার, পথসভা, পোর্টেবল ডিভিডি প্রোগ্রাম, প্রজেক্টর প্রোগ্রাম, সাংবাদিক সম্মেলন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ওয়াজ মাহফিল করেছি। দুই দুইটা দৈনিক পত্রিকা নিয়মিত প্রকাশ করে যাচ্ছি। লক্ষ লক্ষ বই ছাপিয়ে সেগুলো প্রচার করছি। পোস্টারিং করছি। ফেসবুকে ইউটিউবে আমাদের হাজার হাজার কর্মী প্রতিদিন হাজার হাজার কর্মঘণ্টা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লিখে যাচ্ছেন, বলে যাচ্ছেন, ভিডিও বক্তব্য, ডকুমেন্টারি প্রচার করে যাচ্ছেন। তারা নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছেন মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে কাজ করতে করতে। যদি এই কাজগুলো সরকারকে অর্থ ব্যয় করে তাদের কর্মচারীদেরকে দিয়ে করাতে হতো তাহলে কতো হাজার কোটি টাকা খরচ হতো বলুন তো? খেয়ে না খেয়ে থেকে সেই টাকা খরচ করেছে হেযবুত তওহীদের সদস্য-সদস্যারা। এই অবদান কারো চোখে পড়ে না তাই না?
লক্ষ লক্ষ মানুষ আমাদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। তারা শপথ করেছেন যে তারা আর ধর্মব্যবসায়ীদের তৈরি হুজুগে সাড়া দিয়ে জাতিবিনাশী কাজে লিপ্ত হবেন না, তারা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, তারা সাম্প্রদায়িকতা, মাদক, অপরাজনীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। তারা নিজেরাও পরিশুদ্ধ জীবনযাপন করছেন, সমাজকে পরিশুদ্ধ করার জন্য সংগ্রাম করছেন, যাবতীয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। দেশে নাগরিকদেরকে নৈতিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করার কোনো শিক্ষা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার সিলেবাস-কারিকুলামে নেই। তাই উচ্চশিক্ষিত মানুষগুলোও নৈতিক অধঃপতনের শিকার। তারা দেশের কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে দিচ্ছে, তাদের জন্যই বাংলাদেশ বছর বছর দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হচ্ছে। কিন্তু হেযবুত তওহীদ এমন একটি আন্দোলন যার সদস্যরা বিগত তেইশ বছরে দেশের একটি টাকাও নষ্ট করে নি, দেশবিরোধী কোনো কাজ করে নি, দেশের কোনো আইনভঙ্গ করে নি, কোনো অন্যায় অপরাধ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত হয় নি। এটা সরকারি বাহিনীর তদন্ত প্রতিবেদনের ভাষ্য, এটা আমাদের কথা নয়। তাহলে এ দেশের মানুষগুলোকে সুনাগরিকে পরিণত করছে হেযবুত তওহীদ, যার আর কেউ করতে পারে নি।
দেশে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রকৃত ইসলামের ভিত্তিতে আদর্শিক আন্দোলন গড়ে তুলেছি আমরা। আমাদের প্রচারের ফলে বহু জঙ্গিবাদী আদর্শের অনুসারী তাদের ভ্রান্তপথ ত্যাগ করেছে। একটি জঙ্গিবাদী হামলার মোকাবেলা করতে গিয়ে সরকারকে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়, দেশের ভাবমূর্তি ধ্বংস হয়। আমরা বিশ্বাস করি, যদি আমাদের বক্তব্য আরো ব্যাপকভাবে গণমাধ্যমে, শিক্ষাব্যবস্থায়, সভা-সেমিনারে প্রচার করা হয়, যদি সবাই এ কাজে এগিয়ে আসেন তাহলে এই দেশে জঙ্গিবাদ থাকবে না, ধর্মব্যবসা থাকবে না, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা থাকবে না, ধর্মের নামে হুজুগ সৃষ্টি করে জ্বালাও পোড়াও হত্যাকাণ্ড থাকবে না। আমরা রাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের কাছে এবং জনগণের কাছে এই প্রস্তাবনা তুলে ধরছি যে আমরা মানুষের মানসিক পরিবর্তন সাধন করে শান্তিকামী, আইনমান্যকারী, রাষ্ট্রের কল্যাণে আত্মনিবেদিত, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামী মনোভাবাপন্ন, সুসভ্য নাগরিক তৈরি করে করছি এবং করতে পারব। রাষ্ট্র কত হাজার কোটি টাকা খরচ করলে এই কাজটি করতে পারবেন বা আদৌ সেটা পারছেন কিনা আমরা জানি না। শুধু মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে রাষ্ট্র শত শত কোটি টাকা খরচ করে ফেলছে। কত লোক মরছে। প্রশ্নও সৃষ্টি হয়েছে অনেক। কিন্তু সেই মাদক থেকে জাতিকে রক্ষা করার জন্য আমাদের শত শত তরুণ মাঠে কাজ করছে। এই অবদান হেযবুত তওহীদ ছাড়া সরকারী বা বেসরকারী কোন প্রতিষ্ঠান রাখতে পারছে?
জঙ্গিবাদের ধুয়া তুলে পাশ্চাত্যে আগ্রাসী রাষ্ট্রগুলো একটার পর একটা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ধ্বংস করে ফেলছে। আমাদের এই দেশটাকে নিয়েও ষড়যন্ত্র চলছে কারণ এখানেও ৯০% মানুষ মুসলমান যাদের ঈমানী চেতনাকে নিয়ন্ত্রণ করে ধর্মব্যবসায়ীরা। আমরা হেযবুত তওহীদ অঙ্গীকার করেছি যে এই বাংলার মাটিকে আমরা সিরিয়া, আফগানিস্তান, ইরাক বানাতে দেব না। আমরা জীবন দেব তবু এ দেশ ছেড়ে যাবো না, আমরা উদ্বাস্তু হবো না, আমরা এ দেশকে শত্রুর কবল থেকে র¶া করব ইনশাল্লাহ। আমাদের এ প্রতীজ্ঞা নির্বাচনী ওয়াদা নয়, ইতোমধ্যেই আমাদের বহু সদস্য সদস্যা জীবন দিয়ে, রক্ত দিয়ে আমাদের দাবির সত্যতা প্রমাণ করেছি। আরো হাজার হাজার সদস্য সর্বস্ব কোরবান করে সেই সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। আমরা জানতে চাই, বাংলাদেশে কোন রাজনৈতিক দল, কোন পীর, কোন আলেম সমাজ এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন যে, দেশকে র¶ার আমৃত্যু সংগ্রাম করবেন?
অনেক অবদান থাকে যার ফলাফল তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা যায় না। আমি একজন দরিদ্র মানুষকে এক সের চিড়া দিলাম, সেটা দেখে আপনারা বলবেন যে, আমি মানুষের জন্য অবদান রাখছি। সেই মানুষটি চিড়া খেয়ে ফেলল, পরের বেলায় আবার সে ক্ষুধার্ত। সুতরাং এটা হচ্ছে স্বল্পমেয়াদী অবদান। আর আমি যদি এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করি, ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করি যেখানে কোনো মানুষই ক্ষুধার্ত থাকবে না, অভাব দারিদ্র্য থাকবে না তাহলে আমাকে আর জনে জনে এক সের করে তিন বেলা চিড়া দিতে হচ্ছে না। প্রত্যেকটি মানুষ স্বচ্ছল হয়ে যাচ্ছে তাহলে সেটা হলো দীর্ঘমেয়াদী অবদান। আমরা সেই সমাজ বিনির্মাণের পথ জানি, সেটা মানুষের সামনে তুলে ধরছি।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত দিন
ক্যাটাগরি সমূহ
জনপ্রিয় নিবন্ধ
-
যে সভ্যতা তেলা মাথায় তেল দেয় ওই সভ্যতাকে ঘৃণা...
27 Aug, 2015 -
দাঙ্গাকারীদের স্বর্গ নেই
22 Jan, 2016 -
আসুন জান্নাতের রাস্তা চিনে নিই
28 Dec, 2017 -
ইসলাম কীভাবে দাসত্বপ্রথাকে নির্মূল করেছে?
22 Nov, 2023 -
স্বরুপকাঠিতে হেযবুত তওহীদের সংবাদ সম্মেলন
28 Sep, 2019
সাম্প্রতিক নিবন্ধ
-
বিপুল নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে উত্তরায় ঈদুল আজহ...
28 May, 2026 -
উত্তরায় সাংবাদিকদের নিয়ে হেযবুত তওহীদের গোলটে...
16 May, 2026 -
শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে একমাত্র...
01 May, 2026 -
শ্রমিকের অধিকার ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠন ‘নৈতিক জ...
01 May, 2026 -
শ্রমিকের ঘাম নিয়ে ওয়াজ ও রাজনীতি : রিয়াদুল হা...
01 May, 2026
বর্তমানে কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!