পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে হেযবুত তওহীদের এমামের শুভেচ্ছা
ঈদুল ফিতরের এই আনন্দঘন মুহূর্তে আমি শুভেচ্ছা জানাই, অভিনন্দন জানাই আমাদের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে। আমাদের পত্রিকায় যারা নিরলস কাজ করছেন ও প্রকাশনার সাথে যুক্ত রয়েছেন তাদের সবাইকে জানাই বিশেষ অভিনন্দন ও মোবারকবাদ।
আমরা প্রতি বছরের মতো এ বছরও আমাদের সদস্যদের নিয়ে পত্রিকা হাতে মাঠে আছি। আপনারা জানেন, বর্তমানে মানবজাতি এক চরম অরাজকতা, ভয়াবহতা ও নৃশংসতার মধ্য দিয়ে সময় পার করছে। এমন পরিস্থিতিতে আমরা স্বার্থপরের মতো নিজের ঘরের চার দেওয়ালে বসে স্ত্রী-পুত্র-পরিজন নিয়ে জঘন্য পাশবিকতা নিয়ে আমরা দিন পার করতে পারি না। আমাদের বিবেক সেটা সায় দেয় না।
আজ আমাদের অন্তত একটা কিছু করা দরকার। যখন দেখি বোমার আঘাতে মুহূর্তের মধ্যে জনপদ, শহর ও নগর ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, তখন স্থির থাকা কঠিন। বিশ্বের মানবজাতির অমূল্য সম্পদ যেমন তেল সম্পদ, কোটি কোটি ব্যারেল তেল পরিকল্পিতভাবে নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে। এই সম্পদগুলো কেবল মুসলমানদের নয়, এগুলো পুরো বিশ্বমানবতার এবং সভ্যতার জন্য প্রয়োজনীয়।
তারা ড্রাগ ধ্বংস করছে না, ধ্বংস করছে তেল। পারমাণবিক বোমা দিয়ে তারা শহর, নগর আর সভ্যতাকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিচ্ছে। দুটি ঘটনায় দেখা যায়, একদিকে ইসরায়েল শাজারেহ-তাইয়্যেবেহ বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে একটি স্কুলে হামলা চালিয়ে ২০০ শিশুকে হত্যা করেছে। আবার এর কয়েকদিন পরেই পাকিস্তানের সেনাবাহিনী আফগানিস্তানের একটি হাসপাতালে হামলা করে ৪০০ মানুষকে খুন করেছে। এমন নজিরবিহীন পৈশাচিক, নিষ্ঠুর ও নির্মম হত্যাকাণ্ড যখন ঘটে চলেছে, তখন এগুলো বন্ধ করার জন্য একটি নির্দিষ্ট অভীষ্ট লক্ষ্যে আমাদের কাজ করা অপরিহার্য।
মানুষের চলাচলের জন্য যেমন রাস্তাঘাট দরকার, বসবাসের জন্য যেমন বাড়িঘর দরকার, তেমনি মানুষের জীবন পরিচালনার জন্য একটি সঠিক জীবন ব্যবস্থারও প্রয়োজন। একটি আদর্শ ছাড়া মানুষ সুন্দরভাবে চলতে পারে না। আমাদের দেশে হাজার কোটি টাকা খরচ করে নির্বাচন হয়, জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়, কিন্তু অরাজকতা ও ‘মব’ কালচার বন্ধ করা সম্ভব হয় না।
আশা করা হয়েছিল যে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর যখন বিশ্বখ্যাত ও বিশ্বজনীন ব্যক্তিত্বরা দেশ চালনার দায়িত্ব নিলেন, তখন পরিস্থিতির উন্নতি হবে। কিন্তু এই অন্তর্বীর্তীকালীন সময়েও শত শত ‘মব’ জাস্টিসের ঘটনা ঘটেছে। ধর্মীয় স্থাপনা থেকে শুরু করে মানুষের ঘরবাড়িতে লুটতরাজ হয়েছে; বন্ধ করতে পারে নাই। এমনকি বর্তমান নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পরেও এদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। উত্তরায় সামান্য একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেভাবে একটি বিপণীবিতান লুট ও ধ্বংস করা হলো, তা সভ্য সমাজের জন্য চরম লজ্জার।
দেশের ভেতরে ও বাইরের এই অস্থিরতা থেকে জাতির মুক্তির লক্ষ্যে আমরা যখন একটি সঠিক আদর্শ, কর্মসূচি ও দিকনির্দেশনা পেয়েছি। তখন স্বাভাবিকভাবে মানুষের কাছে সেই আহ্বান পৌঁছে দেওয়া আমাদের নৈতিক ও ইমানি দায়িত্ব বর্তায়। এই প্রস্তাবিত ব্যবস্থাটি কতটা টেকসই ও যৌক্তিক, সেটা বলতে হবে না, তা ইতিহাস পাঠ করলেই বোঝা যায়। যারা সামান্য পড়ালেখা করেছেন তারা জানেন, আজ থেকে দেড় হাজার বছর আগে নবী করিম (সঃ) এই ব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমেই পৃথিবীতে শান্তি কায়েম করেছিলেন।
আমাদের এই প্রচেষ্টা ও উদ্যোগ কেবল মানুষের কল্যাণের জন্য। মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ ও হানাহানি দূর করে একটি ঐক্যবদ্ধ মানব সমাজ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা মনে করি, এই পৃথিবীর ওপর প্রত্যেক বনী আদমের সৃষ্টিগত অধিকার রয়েছে। মানুষ তার জীবিকার প্রয়োজনে যেকোনো স্থানে বিচরণ করবে ও বসবাস করবে। কেউ তাকে কাঁটাতারের বেড়া, দেওয়াল বা কল্পিত সীমারেখা দিয়ে আবদ্ধ রাখতে পারে না। কিন্তু বাস্তবতা হলো আজ সেটাই ঘটছে।
এই পত্রিকার মাধ্যমে আমরা সেই সচেতনতা, জাগরণ ও গণবিপ্লব সৃষ্টির একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস চালাচ্ছি। আমাদের একেকজন কর্মী একেকজন সৈনিক। এই একেকটি পত্রিকা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের অস্ত্র এবং প্রতিবাদের ভাষা। আমরা চাই আমাদের এই সমাজ থেকে যাবতীয় উগ্রবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, সন্ত্রাসবাদ, ঘুষ, সুদ, রাহাজানি, মব, লুণ্ঠন, দুর্বৃত্তায়ন, অরাজকতা বন্ধ হোক।
আমরা যেন আল্লাহর সৃষ্টি আদম-হাওয়ার সন্তান হিসেবে এক পরিবার হয়ে এই পৃথিবীতে বসবাস করতে পারি। ঈদ আমাদের জন্য বয়ে আনুক খুশির বার্তা, সমৃদ্ধি এবং ঐক্য, শৃঙ্খলা ও আনুগত্যের সুবাতাস। ঈদের এই কোলাকুলি যেন কেবল ঈদগাহেই সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং অন্তরের অন্তস্তলে সত্যিকার অর্থে হৃদয়ের সম্মেলন ঘটে।
যাদের অর্থবিত্ত আছে, কেবল তারাই ভালো খাবে আর পরবে; এই জঘন্য বিলাসিতা বন্ধ হোক। প্রকৃতপক্ষে রোজার প্রকৃত তাৎপর্য ছিল সংযম ও ত্যাগ; বিলাসিতা নয়। এই ত্যাগের শিক্ষায় যেন নিপীড়িত ও অভাবী মানুষ তাদের অধিকার ফিরে পায়, এই কামনা করি।
পরিশেষে, ধর্ম-বর্ণ-দল-মত নির্বিশেষে পুরো জাতিকে হেযবুত তওহীদ আন্দোলনের পক্ষ থেকে জানাই ঈদ মোবারক। আমাদের জন্য দোয়া করবেন যেন আমরা আমাদের লক্ষ্যে স্থির থাকতে পারি এবং কোনোদিন যেন অন্যায়ের সাথে আপস না করি। আমাদের রাস্তা কণ্টকাকীর্ণ ও প্রস্তরময়; মসৃণ নয়। তবুও আমাদের এই পথে চলতে হবে, পা যতই ক্ষতবিক্ষত হোক। আমরা যে সেই সিরাতুল মুস্তাকিমের এই পথে চলতে পারি। এটাই মুক্তির একমাত্র গ্যারান্টি।
সবাইকে ঈদ মোবারক। শুভেচ্ছা।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত দিন
ক্যাটাগরি সমূহ
জনপ্রিয় নিবন্ধ
-
যে সভ্যতা তেলা মাথায় তেল দেয় ওই সভ্যতাকে ঘৃণা...
27 Aug, 2015 -
দাঙ্গাকারীদের স্বর্গ নেই
22 Jan, 2016 -
আসুন জান্নাতের রাস্তা চিনে নিই
28 Dec, 2017 -
ইসলাম কীভাবে দাসত্বপ্রথাকে নির্মূল করেছে?
22 Nov, 2023 -
স্বরুপকাঠিতে হেযবুত তওহীদের সংবাদ সম্মেলন
28 Sep, 2019
সাম্প্রতিক নিবন্ধ
-
বিপুল নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে উত্তরায় ঈদুল আজহ...
28 May, 2026 -
উত্তরায় সাংবাদিকদের নিয়ে হেযবুত তওহীদের গোলটে...
16 May, 2026 -
শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে একমাত্র...
01 May, 2026 -
শ্রমিকের অধিকার ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠন ‘নৈতিক জ...
01 May, 2026 -
শ্রমিকের ঘাম নিয়ে ওয়াজ ও রাজনীতি : রিয়াদুল হা...
01 May, 2026
বর্তমানে কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!